এশিয়া কাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ব্যাট হাতে শুরুতে ধীরগতির ইনিংস এবং মাঝের ওভারে চাপ সামলানোর পর শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশকে ১২৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। পরে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭১ রানের বড় জয় তুলে নেয় নিগার সুলতানার দল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। এশিয়া কাপে এবারই প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া দলটি শুরু থেকেই ভালো লাইন ও লেংথে বোলিং করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্বচ্ছন্দ হতে দেয়নি। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে বাংলাদেশ প্রতি ওভারে ছয় রানেরও কম গতিতে রান তোলে। ওই সময় ৩২ রানে একটি উইকেট হারিয়েছিল তারা।
তবে ধীরগতির শুরু সামলে ইনিংসকে এগিয়ে নেন সোবহানা মোস্তারি ও দিলারা আক্তার। দিলারা ৩১ বলে ২৭ রান করেন। ইনিংসের বড় সময়েই অবশ্য তাঁকে ছন্দের সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যায়। দ্রুত রান তোলার সুযোগ তৈরি হয়নি। অধিনায়ক নিগার সুলতানাও বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। ১১ বলে ১০ রান করে তিনি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
এরপর সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে জুটি গড়েন স্বর্ণা আক্তার। ১৯ বলের এই জুটি থেকে আসে ২১ রান। সোবহানা শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৪০ রান করে আউট হন। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসে গতি এনে দেন স্বর্ণা। শেষ দিকে মাত্র সাত বলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তিনি ১৭ রান যোগ করেন।
স্বর্ণা ১৮ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের কারণেই শেষ কয়েক ওভারে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় রান তুলতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ পর্যায়ে স্বর্ণার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ১২৯ রানের সংগ্রহকে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন লক্ষ্য বানিয়ে দেয়। বাংলাদেশের এক প্রান্তে যখন দ্রুত উইকেট পড়ছিল, তখন অন্য প্রান্তে স্বর্ণা পরিস্থিতি সামলে নেন।
১২৯ রান তাড়া করতে নেমে ইন্দোনেশিয়ার শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। কোনো উইকেট না হারিয়ে ২.৩ ওভারে তারা ১৯ রান তুলে নেয়। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়। পাওয়ার প্লের মধ্যেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মারুফা আক্তার।
এরপর বাংলাদেশের স্পিনাররা ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিংয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি করেন। নাহিদা আক্তারের নেতৃত্বে স্পিন আক্রমণ ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নেয়। নাহিদা তিনটি উইকেট শিকার করেন। মারুফা আক্তারও দুটি উইকেট পান। সানজিদা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন একটি করে উইকেট নেন।
ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপ বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে খুব বেশি প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া কোরাজোন, তাও আসে ১৩ বল থেকে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানেই অলআউট হয় এশিয়া কাপে অভিষিক্ত দলটি।
বাংলাদেশের জন্য জয়টি এসেছে মূলত দুটি ভিন্ন পর্যায়ের পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে। প্রথমে সোবহানার দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে স্থির ভিত্তি দেয়, পরে স্বর্ণার দ্রুত রান সংগ্রহ ইনিংসের শেষটা শক্তিশালী করে। বোলিংয়ে মারুফার শুরু এবং নাহিদার নেতৃত্বে স্পিনারদের ধারাবাহিক আক্রমণ ম্যাচটিকে একতরফা করে দেয়।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পরবর্তী পরীক্ষা আরও কঠিন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে নিগার সুলতানার দল। প্রথম ম্যাচের জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও সেই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধীরগতির জায়গাগুলো কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি বোলিংয়ের ধারাবাহিকতাও ধরে রাখাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।









