জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়ানোর হুমকি, যুবক গ্রেফতার

প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগে রাফিদ শিকদার (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তিনি একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার রাফিদ রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন এলিফ্যান্ট রোড এলাকার মুজিবুল্লাহ সিকদারের ছেলে। মঙ্গলবার র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মামলার অভিযোগের বরাতে র‌্যাব জানায়, কেরানীগঞ্জে বসবাসরত ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে রাফিদের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাফিদ কৌশলে তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তরুণীকে ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে রাফিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি ওই তরুণীর কাছে টাকা দাবি করতে থাকেন। টাকা না দিলে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বলা হয়।

ভুক্তভোগী তরুণী তাকে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং হুমকি ও মানসিক চাপ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তরুণী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে পরিবারের সহযোগিতায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রাফিদ ফের ওই তরুণীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এ সময় আগে ধারণ করা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওও তাকে পাঠানো হয়। এতে ভুক্তভোগী আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত থানায় মামলা করেন।

পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-১০-এর অধিনায়কের কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব আসামির অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায়ও তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ধারাবাহিকতায় রাফিদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর সোমবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে র‌্যাব-১০-এর সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে রাফিদ শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও তার সম্মতি ছাড়া ধারণ করা, সংরক্ষণ করা কিংবা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন। এ ধরনের ঘটনা ভুক্তভোগীর ওপর তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে এবং সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে বিষয়টি জানানো গুরুত্বপূর্ণ। হুমকি দেওয়া বার্তা, অর্থ দাবির তথ্য, ফোন নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন কিংবা পাঠানো ছবি ও ভিডিওর মতো ডিজিটাল প্রমাণ মুছে না ফেলে সংরক্ষণ করা তদন্তের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অন্যদের কাছে ছড়িয়ে না দিয়ে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া জরুরি।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর