জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

চলন্ত ট্রেনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশসহ আসামি ৩

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিনে ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বাকি দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই দুজনের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর ট্রেনের যাত্রীরা ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আবু বক্কর নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তিনি সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুল করে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে উঠে পড়েন। ট্রেনটি সান্তাহার রেলওয়ে থানার আওতাধীন নাটোর এলাকা অতিক্রম করার সময় তিনি ক্যান্টিনে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই নারী চিৎকার করলে ট্রেনের কয়েকজন যাত্রী বিষয়টি টের পান। তারা ক্যান্টিনে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং আবু বক্করকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশের এসপি (পাকশি) মেহেদী হাসান জানান, ট্রেনটি নাটোর স্টেশন পার হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী মোবাইল ফোনে তার ছেলেকে ঘটনার কথা জানান। এরপর তার ছেলে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ভুক্তভোগী নারী ও আটক আবু বক্করকে পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপর দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী তার বক্তব্যে বলেছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তবে তাদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আবু বক্করকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই জবানবন্দিতে তিনি একাই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে মামলার অন্যান্য আসামির ভূমিকা এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগে উল্লেখ করা পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা তদন্তের বিষয়।

ঘটনাটি তদন্তে সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের নিরাপত্তা দলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাসহ সব সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের এসপি মেহেদী হাসান।

এদিকে মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের নাম থাকার কথা জানা গেলেও তাদের পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, পুলিশ এ বিষয়ে তথ্য দিতে গড়িমসি করেছে।

সান্তাহার শহর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে তিনি তথ্য সংগ্রহের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তখন মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর তথ্য দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে তিনি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু থানা থেকে চলে যান। কিন্তু এরপরও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জিল্লুর রহমানের দাবি, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখানো হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, মামলার তথ্য আদালতে আসামি পাঠানোর আগে সাংবাদিকদের দেওয়ার বিধান নেই।

এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, আসামিকে আদালতে পাঠানোর আগে মামলার তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ার নিয়ম নেই।

অন্যদিকে বগুড়া জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, অভিযোগে উল্লেখ করা অপর দুই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর