মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা প্রধান বাজারের জমজম টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শ্রীনগরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকেরা। অপর পক্ষের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সমর্থকেরা।
দুই পক্ষ পৃথকভাবে মিছিল নিয়ে উপজেলা প্রধান বাজার এলাকায় আসার সময় জমজম টাওয়ারের সামনে তাদের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে।
এ সময় ছোড়া ইটের টুকরো মাথায় লেগে আহত হন শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত। এ ছাড়া সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থক রনি (২৭) এবং অপর পক্ষের একজন ইউপি সদস্য (৪০) আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের আঘাতের ধরন বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত বলেন, দুই পক্ষই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। মিছিল নিয়ে আসার সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করেছে। এ সময় ছোড়া ইটের টুকরো তাঁর মাথায় লাগে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য শ্রীনগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কেউ ফোন ধরেননি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একই দলের স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এমন সংঘর্ষে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ না করায় আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট হয়নি।









