জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

মাওয়া এলাকায় বাস উল্টে আহত আট যাত্রী

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া এলাকায় পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের ঢালে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে আটজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে শিশু, তরুণ, মধ্যবয়সী ও বয়স্ক যাত্রী রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের ভেতর থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার খবর আসে। মাওয়া এলাকায় পদ্মা সেতুর ঢালে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়েছে বলে জানানো হয়। বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

সংবাদ পাওয়ার পর শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান, বাসটি সড়কের পাশের অংশে উল্টে পড়ে আছে। দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে তাদের বের করে আনেন। পরে আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনায় আহত আটজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী সাইফুল্লাহ, তার বয়স ৮০ বছর। একই এলাকার লুৎফরের বয়স ৬৩ বছর। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার রেবেকা খাতুনের বয়স ৪০ বছর। জেলার দামুড়হুদার নূর ইসলাম ও রশিদার বয়স যথাক্রমে ৪৬ ও ৪০ বছর। এছাড়া মাগুরার মোহাম্মদপুরের সাত বছর বয়সী ফাতেমা, শ্রীপুরের ২৩ বছর বয়সী সাইফ এবং ফরিদপুরের মধুখালীর ১৩ বছর বয়সী আরাফাত আহত হয়েছেন।

আহত যাত্রীর নামবয়সঠিকানা
সাইফুল্লাহ৮০মাগুরা সদর
লুৎফর৬৩মাগুরা সদর
রেবেকা খাতুন৪০আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা
নূর ইসলাম৪৬দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা
রশিদা৪০দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা
ফাতেমামোহাম্মদপুর, মাগুরা
সাইফ২৩শ্রীপুর, মাগুরা
আরাফাত১৩মধুখালী, ফরিদপুর

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এরপর সেটি উল্টে গিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। তবে শুধু অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পেছনে সড়কের অবস্থা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দুর্ঘটনার পর উল্টে যাওয়া বাসটি সড়কের পাশে পড়ে থাকায় ওই পথে কিছু সময় যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়। উদ্ধারকাজের সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনকেও সতর্কভাবে চলাচল করতে হয়।

পদ্মা সেতু রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস, পণ্যবাহী যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে সেতুর সংযোগ সড়কের ঢাল ও বাঁকযুক্ত অংশে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে সামান্য নিয়ন্ত্রণহীনতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এ দুর্ঘটনায় আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। একই সঙ্গে বাসটির চালক ও অন্য যাত্রীদের বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্যও পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় বাসটির প্রকৃত গতি কত ছিল, চালক কোনো কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না, বাসটির ব্রেক বা অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যা ছিল কি না এবং সড়কের পরিস্থিতি কেমন ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়ক ও সেতুর সংযোগ সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল বা বাঁকে সতর্ক থাকা এবং যানবাহনের নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘপথের যাত্রীবাহী বাসের চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো প্রয়োজন। মাওয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর