জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ধানমন্ডিতে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, আটক ছিনতাইকারীসহ তিন

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার পথে দিনদুপুরে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি তাদের পিছু নেন। ধাওয়ার একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে একজন ছিটকে পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলেন। পরে তার কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই চক্রের আরও দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরের দিকে ধানমন্ডি লেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত এলাকায় দিনের আলোয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী একটি ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর ওই টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে তিনি গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন। ধানমন্ডি লেক এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইয়ের পর তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ছাড়ার চেষ্টা করে।

তবে টাকা হারিয়ে চুপ করে থাকেননি ভুক্তভোগী। তিনি ছিনতাইকারীদের পেছনে ধাওয়া করেন। ধাওয়া চলার একপর্যায়ে মোটরসাইকেলে থাকা একজন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। আশপাশের লোকজন তখন এগিয়ে এসে তাকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, একজন কলার ফোন করে বলেন, ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে এক ব্যক্তির টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে ভুক্তভোগী তাদের ধাওয়া করলে একপর্যায়ে একজন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন।

৯৯৯-এর কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল মজিবুর রহমান। এরপর পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. জহিরুল ইসলাম কলার ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেন। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধানমন্ডি থানাকে ঘটনাটি জানানো হয়।

খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের হাতে আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার পর তার পরিচয় তানভীর আবেদীন জুয়েল (৪১) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানায়, তার কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। ধানমন্ডি থানার একাধিক দল এবং গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে একই ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে আটক করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘটনায় ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা, চক্রটির সদস্যদের ভূমিকা এবং ভুক্তভোগীকে আগে থেকে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় এখন পুলিশের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর ভুক্তভোগীর গতিবিধি ছিনতাইকারীরা কীভাবে জানতে পেরেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের সময় কারও গতিবিধি আগে থেকে নজরদারিতে ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা গেলে ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে ছিনতাই হওয়া ৩৯ লাখ টাকা এখনও উদ্ধার হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির উৎস এবং চক্রটির সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

দিনদুপুরে ধানমন্ডির মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন ঘটনা নগদ অর্থ বহনের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। বড় অঙ্কের টাকা একা বহনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সন্দেহজনকভাবে কেউ অনুসরণ করছে বলে মনে হলে সরাসরি মুখোমুখি না হয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোও জরুরি।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং জাতীয় জরুরি সেবায় দ্রুত খবর দেওয়ার ফলে একজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা সম্ভব হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এখন ছিনতাই হওয়া অর্থ উদ্ধার, অস্ত্রের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া এবং পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা বের করাই তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর