নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি এবং অস্বীকৃতি জানানোয় হামলা ও ভাঙচুরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে অনৈতিকভাবে চাঁদা আদায় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের সুখেরটেক এলাকায় অবস্থিত ‘হলোপ্লাস সেন্টার’ নামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এই তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় কারখানার নিরাপত্তা ও কর্মরতদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের কারখানার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা এই অবৈধ চাঁদা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার বিকালে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানার মূল ফটকে চড়াও হয়। হামলাকারীরা মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। ভেতরে ঢুকতে না পেরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার সীমানাপ্রাচীরের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে কারখানা চালু রাখলে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
এই আকস্মিক ও ভীতিপ্রদ হামলার পর কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বন্দর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পারিপার্শ্বিক আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









