কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনায় একই পরিবারের মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ক্যাম্পের ওই দুই ব্লকে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন সময়ে গুলির শব্দ শোনা যায়। রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সংঘর্ষের সময় বিপুলসংখ্যক গুলি ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
গুলিতে আহত দুজন হলেন ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলমের স্ত্রী তাহেরা বেগম এবং তার ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা দুজনকেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এআরএ, আরসা ও আরএসও সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে ঠিক কী কারণে তিন পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের সময় আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গোলাগুলির সময় প্রায় ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলি ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। তবে গুলির প্রকৃত সংখ্যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। সংঘর্ষের সময় কোনো পক্ষের কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি জানান, গোলাগুলির মধ্যে একই পরিবারের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এপিবিএন কর্মকর্তা আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং কী কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নতুন করে কোনো ধরনের সংঘর্ষ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাধারণ শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবারের ঘটনায়ও গুলির শব্দে বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লকের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আহত মা ও ছেলের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সংঘর্ষের কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং গোলাগুলির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে তদন্তের পর আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।









