নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ সামনে আসার পর তাকে দলীয় সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দুয়া পৌর বিএনপি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বকুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলীয় সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই স্কুলছাত্রীকে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথম দিকে নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করা হয়। পরে ওই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীটিকে বারবার ধর্ষণ করা হয়। একই কৌশল ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিদের দিয়েও তাকে ধর্ষণ করানোর অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে তার আপত্তিকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। এরপর তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি বকুলসহ অন্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলায় অভিযোগের ধরন ও ভুক্তভোগীর বয়স বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলা হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ঘটনাটি নিয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর বকুলকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দুয়া পৌর বিএনপি। তবে মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।









