রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
জেলা পর্যায়ে সরকারের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে দেশের ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে পৃথক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে গেজেট জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে সেই অর্থের একটি অংশ লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং অপর অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং সরকারের কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নতুন দায়িত্বের আওতায় মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজের মধ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন তদারকিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে তারা ভূমিকা রাখবেন।
সরকারি সেবা মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও দায়িত্বপ্রাপ্তরা নজর রাখবেন। প্রয়োজন হলে তারা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সরকারি সভায় অংশ নিয়ে প্রশাসন ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিতে পারবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তিন জেলায় আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে মীর শাহে আলমের ওপর অর্পিত নতুন দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









