জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের দেওয়া সাজা ও পরবর্তী গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার একটি মামলায় আদালত বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই রায়ে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। আদালতের ওই রায়ের পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে গুলশান থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, আদালতের রায় এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে যে আদালত বিদিশা এরশাদকে ওই মামলায় সাজা দিয়েছেন, তার নাম এবং মামলাটির অভিযোগের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ। মামলাটিতে ঠিক কী ধরনের প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের রায় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাই তাঁর গ্রেপ্তারের প্রধান ভিত্তি।
বিদিশা এরশাদ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। এরশাদের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিকে ঘিরে বিভিন্ন সময় তিনি আলোচনায় ছিলেন। এরশাদের মৃত্যুর পরও রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর নাম সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
তবে এবারের গ্রেপ্তারের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্কের কথা পুলিশ জানায়নি। বরং একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের দেওয়া সাজা এবং সেই মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুলশান থানা।
আইনগতভাবে কোনো মামলায় আদালত সাজা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা কার্যকর করতে পারে। গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে যায়।
বিদিশা এরশাদের ক্ষেত্রে এখন সেই আইনি প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ, আদালতের রায়ের তারিখ এবং পরবর্তী শুনানির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।









