নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আসবাবপত্রের দোকানে ভারী একটি ফার্নিচার গায়ের ওপর পড়ে ফাইজা নামের ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে মিজমিজি তেরা মার্কেটের জুয়েল রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাইজা ওই এলাকার পোশাক কারখানার কর্মী ফরহাদ মিয়ার মেয়ে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, বাবার সঙ্গে শিশুটি ‘ভাই ভাই ফার্নিচার’ নামের দোকানে গিয়েছিল। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারীরা ফরহাদ মিয়াকে ডাক দেন। এ সময় তার কাছ থেকে কিছুটা দূরে থাকা ফাইজা হামাগুড়ি দিয়ে বাবার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
হঠাৎ সেখানে রাখা একটি ভারী ফার্নিচার শিশুটির ওপর উল্টে পড়ে। এতে গুরুতরভাবে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় দোকান ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
শিশুটির বাবা ফরহাদ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই তিনি ওই দোকানে গিয়েছিলেন। দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলার সময় ফাইজা হামাগুড়ি দিয়ে তার কাছে আসছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ভারী একটি ফার্নিচার মেয়েটির গায়ের ওপর পড়ে। নিজের চোখের সামনে মেয়ের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দোকানে ভারী আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যাতে তা সহজেই পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। তাদের ধারণা, মালামাল রাখার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা না থাকার কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এ ধরনের ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দোকান বা গুদামে ভারী আসবাবপত্র রাখার ক্ষেত্রে সেগুলো স্থির ও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশুদের চলাচলের জায়গার কাছাকাছি ভারী মালামাল রাখা হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে এবং কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মাত্র ১৮ মাস বয়সী শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্ঘটনার পেছনে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন সামনে এসেছে।









