রাজবাড়ীর পাংশায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই সংরক্ষিত নারী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে আটক করেছে। ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেলে তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হলেও রাতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সহ আটকের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো পাংশা ও কালুখালী উপজেলায় নানা গুঞ্জন ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পাংশা মডেল থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে নামে। ডিবির সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) শিমুল শেখের নেতৃত্বে টিমটি পাংশা পৌরসভার কলেজ রোডের ‘উড ওয়ার্ড ফার্নিচার’ দোকানের সামনের পাকা সড়কের ওপর অবস্থান নেয়। ওই সময় এলাকা দিয়ে যাতায়াতকালে দুই নারীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাঁদের থামিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে তাঁদের হেফাজতে কৌশলে রাখা ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া দুজনই কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, তাঁদের মধ্যে একজন মোহনপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী মোছা. হামিদা খাতুন (৪৭)। তিনি মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য। অন্যজন হলেন একই ইউনিয়নের চর কুলটিয়া গ্রামের কদর আলী মণ্ডলের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)। তিনি ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডিবির বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ মাদকদ্রব্য পরিবহন ও বহনের অপরাধে তাঁদের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর পরিষদের দুই নারী সদস্য ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার বিষয়টি তিনি স্থানীয়দের কাছে শুনেছেন। তবে এই বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি তাঁকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মনে করছেন, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিদের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার পেছনে কোনো বড় সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের গভীর তদন্ত প্রয়োজন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।









