পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা ১,৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাহাজের মালামাল খালাসে স্থানীয়দের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযোগের তীর স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের দিকে।
গত ২৫ আগস্ট বিকেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিসংলগ্ন বটতলা বাজার এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি হওয়া পাঁচজন হলেন—রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০)। বাকি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই দিন সকাল ১১টা থেকে সরকার নিবন্ধিত ‘পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা। পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি কয়লা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে আসা জাহাজগুলোতে মালামাল বোঝাই ও খালাসের কাজে স্থানীয় রেজিস্টার্ড শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে এই আন্দোলন চলছিল। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর বেলা ৩টার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
কর্মসূচি স্থগিত হলেও কিছু শ্রমিক জেটির কাছের বটতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শ্রমিকদের দাবি, বিকেল ৫টার দিকে ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধার নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে গিয়ে আচমকা চড়াও হয়। সাধারণ শ্রমিকদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা তপন মৃধা। তিনি বলেন, “মারধরের সময় প্রশাসনের লোকজন এলাকাতেই ছিলেন। তারা যদি বলেন আমি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তবে যেকোনো শাস্তি মেনে নেব। ঘটনা ঘটার পর খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছি। কারা এই মারামারির সঙ্গে জড়িত, তা আমার জানা নেই।”
বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









