জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

মাকে ধর্ষণের পর হত্যা, নদীতে ফেলে দেওয়া হলো কোলের শিশুকে

মাদারীপুরের শিবচরে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার পাঁচ দিন পর এক বছরের এক শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে ওই শিশুটির মা শাম্পা আক্তারকে (২২) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে শিবচর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে শিশু আবিরের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড় সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাট সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ভিড় জমে যায়। পরে খবর পেয়ে শিবচর থানা-পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় একটি জমির ঝোপের পাশ থেকে শাম্পা আক্তারের নিথর দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। নিহত শাম্পা নাটোর জেলার লালপুর এলাকার ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড়ো মেহের এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তরুণী এই মায়ের আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যু তার পরিবারকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।
মেয়ের এই করুণ মৃত্যুর পরদিন গত ২০ আগস্ট নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ ও র‍্যাব-৮-এর একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ফারুক মোল্লা নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, শাম্পা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং তার সাথে থাকা এক বছরের কোলের শিশু আবিরকেও হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পশুবৃত্তসুলভ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহত পরিবার।
এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি বা আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে কি আপনি আরও কিছু জানতে চান?
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর