জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

লালপুরে বেপরোয়া স্টিয়ারিং গাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত

নাটোরের লালপুরে বেপরোয়া গতিতে চলা শ্যালো ইঞ্জিনচালিত স্টিয়ারিং গাড়ির ধাক্কায় মো. শাহজাহান (৩৫) নামে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দুড়দড়িয়া ইউনিয়নের বাঘা-লালপুর হাইওয়ে সড়কের বেরিলাবাড়ী মৌজায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত শাহজাহান রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গৌরাঙ্গাপুর এলাকার মো. সাজদারের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। ঘটনার সময় যাত্রী নিয়ে তাঁর অটোরিকশাটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। শাহজাহান তখন অটোরিকশার ডান পাশে পর্দা লাগানোর কাজ করছিলেন। আকস্মিকভাবে দ্রুতগতির একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত স্টিয়ারিং গাড়ি এসে তাঁকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টির কারণে সড়ক ভেজা ছিল। লালপুরের দিক থেকে একটি স্টিয়ারিং গাড়ি বাঘার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলার একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর সেটি সড়কের পাশ ঘেঁষে থাকা শাহজাহানকে সজোরে আঘাত করে।

ধাক্কার তীব্রতায় শাহজাহান ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে যান। এ সময় স্টিয়ারিং গাড়ির একটি রড তাঁর কপালে আঘাত করে। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এলেও গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়রা দুর্ঘটনাকবলিত স্টিয়ারিং গাড়িটি আটক করেন। একই সঙ্গে এর চালক মো. সবুজকে (২৪) ধরে ফেলেন তাঁরা। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি সবুজকে মারধর করলে তিনিও আহত হন।

খবর পেয়ে লালপুর থানার উপপরিদর্শক মনির হোসেন সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবুজকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। নিহত শাহজাহানের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা হয়।

পুলিশ দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত স্টিয়ারিং গাড়িটি জব্দ করেছে। তবে নিহতের অটোরিকশাটি তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। চালক সবুজকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্ঘটনাটি আবারও বর্ষাকালে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদে যান চালানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। বৃষ্টির সময় সড়ক ভেজা থাকায় চাকার সঙ্গে রাস্তার ঘর্ষণ কমে যেতে পারে এবং আকস্মিকভাবে ব্রেক করলে কিংবা বাঁক নিতে গেলে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত ভারী ও ধীরগতির যানবাহনের সঙ্গে দ্রুতগতির যান চলাচল করলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সড়কের পাশে যাত্রী ওঠানামা কিংবা যানবাহন মেরামতের সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের গতি, চালকের দক্ষতা এবং সড়কে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। লালপুরের এই দুর্ঘটনায় একজন কর্মজীবী মানুষের প্রাণহানি শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর