গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মাঝিগাতী ইউনিয়নের বাজুনিয়া মনা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিল থেকে উসকানিমূলক ও কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় মিছিলে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
আটক ছয়জন হলেন—গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠি গ্রামের ঠান্ডা মোল্লার ছেলে রাতুল মোল্লা, আহমেদ শেখের ছেলে মুন্না শেখ, মোহাম্মদ রিপন শেখের ছেলে রিফাত শেখ, চর সোনাকুড় গ্রামের শারাফত শেখের ছেলে মেহেদী হাসান, রমজান আলীর ছেলে হৃদয় খান এবং মাঝিগাতী গ্রামের জাকির শেখের ছেলে রিশাদ শেখ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান রিপনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী এলাকায় মিছিল বের করেন। মিছিল চলাকালে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। এর মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফাঁসি চাই’সহ কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা বেশ কয়েকজন সেখান থেকে সরে পড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের পরিচয় যাচাই ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। মিছিলের সঙ্গে থাকা অন্যদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মিছিলটি কী উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল, এতে কারা অংশ নিয়েছিল এবং সেখানে কী ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী হবে, তা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজুনিয়া মনা মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে অনুমতি, জনসাধারণের চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মসূচিতে উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগানের অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গোপালগঞ্জের এ ঘটনায়ও তদন্তের মাধ্যমে মিছিলের সার্বিক পরিস্থিতি এবং প্রত্যেক আটক ব্যক্তির ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









