জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

মিরসরাইয়ে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল তিন ফার্নিচারের দোকান

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ফার্নিচারের দোকান পুড়ে গেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুনে দোকানগুলোর কাঠ, তৈরি আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত তিন দোকানের মালিক হলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, দিদার হোসেন ও মেজবাউল আলম। রাতের গভীরে বাজারের একটি অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আশপাশের দোকান ও স্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়।

খবর পেয়ে বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে আগুন আশপাশের এলাকায় আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে যায়।

বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন তিতাশ জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে তিনটি দোকানঘর পুড়ে গেছে এবং তিনটিই ফার্নিচারের দোকান।

ফার্নিচারের দোকানে সাধারণত কাঠ, বোর্ড, ফোম, কাপড়, বার্নিশ, রং ও বিভিন্ন ধরনের তৈরি আসবাব একসঙ্গে মজুত থাকে। এসব সামগ্রী সহজেই আগুন ধরে ফেলতে পারে। ফলে কোনো একটি দোকানে আগুন লাগলে অল্প সময়ের মধ্যে তা বড় আকার ধারণ করার ঝুঁকি থাকে। জোরারগঞ্জ বাজারের এই ঘটনাতেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের জন্য রাতের সময়ে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বিশেষভাবে উদ্বেগের। দোকান বন্ধ থাকার কারণে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগ, পুরোনো তার, অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চাপ কিংবা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি থেকেও শর্টসার্কিটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিটের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও পর্যালোচনার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল হারিয়েছেন। এতে তারা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ফার্নিচার ব্যবসায় কাঠ ও তৈরি আসবাবের মজুতের মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় আগুনে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের দোকানগুলোতে নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ তার ও সরঞ্জাম পরিবর্তন এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে রাতের সময়ে বাজারের নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হলে আগুনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনটি ফার্নিচারের দোকান পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর