ঢাকার কেরানীগঞ্জে ইট-বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে হাতাহাতি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। এক পক্ষের দাবি, নির্মাণসামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ থেকেই সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল। অন্য পক্ষের বক্তব্য, মূল বিরোধের কারণ পাওনা টাকা এবং সরবরাহ করা পণ্যের হিসাব-নিকাশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট বিকেল ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী আতাসুর এলাকার কাজীরগাঁও মৌজায় ঘটনাটি ঘটে। পরে শরীফুল ইসলাম কালাম নামে এক ব্যক্তি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
শরীফুলের অভিযোগ, কাজীরগাঁও মৌজায় তার ক্রয় করা ব্যক্তিগত জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। ওই কাজের জন্য কামরুল ইসলাম ও তার ব্যবস্থাপক শাহীন ইট-বালুসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করতেন। কিন্তু সরবরাহ করা সামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে একপর্যায়ে তার অসন্তোষ তৈরি হয়।
শরীফুলের দাবি, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তিনি ওই সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ইট-বালু নেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে অন্য একজনের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ শুরু করেন। তার অভিযোগ, সরবরাহকারী পরিবর্তনের বিষয়টি জানার পর কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন বলে দাবি করেছেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে শরীফুলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল ইসলাম। তার বক্তব্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নির্মাণকাজে ইট-বালু ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে আসছেন। শরীফুলের নির্মাণকাজেও তিনি সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন। কিন্তু ওই সরবরাহের বিপরীতে এখনো প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কামরুলের ভাষ্য, পাওনা টাকা এবং সরবরাহ করা নির্মাণসামগ্রীর হিসাব নিয়ে কথা বলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তার ব্যবস্থাপক শাহীন ও শরীফুলের মধ্যে হাতাহাতি হয়। কামরুলের দাবি, শরীফুল তার ব্যবস্থাপককে মারধর করেন। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে ওঠা অভিযোগও নাকচ করেছেন কামরুল। তার বক্তব্য, সরবরাহ করা ইট-বালুর মান নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সরাসরি তাকে জানানো যেত। সে ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের সুযোগ ছিল। তার মতে, ব্যবসায়িক লেনদেন, পাওনা টাকা এবং হিসাব-নিকাশ নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত।
ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। শরীফুলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নির্মাণসামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ এবং হামলার দাবি। অন্যদিকে কামরুলের বক্তব্যে পাওনা অর্থ ও সরবরাহের হিসাবই প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের সময় কে প্রথমে হামলা বা হাতাহাতিতে জড়িয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে পণ্যের পরিমাণ, মান, মূল্য, সরবরাহের সময় এবং পাওনা অর্থের হিসাব স্পষ্টভাবে সংরক্ষণ না করলে ব্যবসায়িক বিরোধ দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত নির্মাণকাজে একাধিক সরবরাহকারী যুক্ত থাকলে মৌখিক চুক্তির পরিবর্তে লিখিত হিসাব রাখা বিরোধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ঘটনায় এমন কোনো লিখিত চুক্তি বা হিসাবের নথি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, ইট-বালু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় এক পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষের অভিযোগের কোনটি সত্য, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অভিযোগ এবং নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ও পাওনা অর্থের হিসাব যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ যাতে আরও বড় সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।









