চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার কসবা ইউনিয়নের বাইলকাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলার চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন।
নাচোল থানা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাদেরের নিজ বাড়িতে অবস্থানের সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকমল চন্দ্র দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গভীর রাতে ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। চারপাশ থেকে ঘেরাও করে অভিযান পরিচালনা করায় আসামির পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। রাত শেষের দিকে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
শনিবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাচোল থানার ওসি সুকমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে থানায় আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা ছিল। ওই মামলায় তিনি এতদিন পরোয়ানাভুক্ত ফেরারি আসামি ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে ওই পুরোনো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার দুপুরের পর প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র প্রস্তুত করে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা আব্দুল কাদের কেবল দলীয় রাজনীতিতেই সক্রিয় ছিলেন না, তিনি স্থানীয় উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় প্রভাবশালী ভূমিকা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা আইনি জটিলতা ও মামলার কারণে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
মামলার পুরোনো নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা ও অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর একটি চাঁদাবাজির মামলায় তিনি জেলা আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ওই সময় বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত পান এই আওয়ামী লীগ নেতা। তবে কারামুক্তির পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি দূরে গিয়ে আত্মগোপন করেন।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে তাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে নাচোল থানা কিংবা জেলার অন্য কোনো থানায় আরও মামলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে কি না, পুলিশ এখন তা খতিয়ে দেখছে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।









