বাংলাদেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এর অংশ হিসেবে সিলেট, চট্টগ্রাম ও কমলাপুরের তিনটি স্টেডিয়ামের মাঠ, গ্যালারি, ড্রেসিংরুমসহ ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট অংশের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাফুফের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সময়ে কক্সবাজারের রামুতে ফিফার অর্থায়নে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগও এগোচ্ছে।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হলে শুধু ভালো খেলোয়াড় তৈরি করলেই হবে না; নিয়মিত অনুশীলন, মানসম্মত মাঠ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী নির্দিষ্ট ভেন্যুও প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনটি স্টেডিয়ামকে ঘিরে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে স্টেডিয়াম হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় কিছু প্রশাসনিক ও নথিপত্র-সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সময় লাগছে। বাফুফে সভাপতি স্পষ্ট করেছেন, স্টেডিয়ামের বাণিজ্যিক অংশের মালিকানা বা ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের হাতে যাবে না। স্টেডিয়ামের দোকান, দোকানের ভাড়া কিংবা এসব সম্পদের মালিকানাসংক্রান্ত অধিকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছেই থাকবে। বাফুফে মূলত মাঠ, গ্যালারি, ড্রেসিংরুম এবং ফুটবল-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্রীড়া কার্যক্রমের অংশ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে চায়।
রামুর প্রশিক্ষণকেন্দ্র নিয়েও রয়েছে বড় পরিকল্পনা। প্রাথমিকভাবে ২৫ একর জমিতে কেন্দ্রটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত ১৫ একর জমি পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। জমি বাফুফের নামে হস্তান্তর হলে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে ওই জমির আয়তন ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নকশা তৈরি করা হবে। জমি কমে গেলেও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।
রামুতে এমন একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে উঠলে জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর নিয়মিত ক্যাম্প আয়োজনের সুযোগ বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের একই ধারাবাহিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যৎ দল গঠনের কাজও আরও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোয় বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের মাটিতে তিন বা চার জাতির একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কিরগিজস্তান থেকেও ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছে। ফলে সামনে জাতীয় দলের জন্য ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় ফুটবলারদের মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়েও সতর্ক করেছে বাফুফে। জাতীয় দলের হয়ে খেলা ফুটবলারদের একটি অংশ অফ সিজনে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের ‘ক্ষ্যাপ’ ম্যাচে অংশ নেন। কখনো সামাজিক বা রাজনৈতিক অনুরোধে, আবার কখনো অর্থের বিনিময়ে এসব ম্যাচে খেলতে দেখা যায় তাঁদের।
তাবিথ আউয়াল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এ ধরনের ম্যাচে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলেছেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য শারীরিক সক্ষমতা ও চোটমুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন ম্যাচে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে—বিশেষ করে জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচি সামনে থাকলে।
বাফুফের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা, রামুতে প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন—তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত। মাঠ ও প্রশিক্ষণসুবিধা উন্নত করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের পেশাদার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় দলের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হতে পারে।









