
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েলি হামলা ও হতাহতের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৫৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ১৩১ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা দুই ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে হামলায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এতে যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী সময়ের মোট হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বহু পরিবার এখনো ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি এবং সীমিত জরুরি সেবার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় প্রতিটি নতুন হামলা শুধু প্রাণহানিই বাড়াচ্ছে না, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ওপরও চাপ তৈরি করছে। আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান—সবকিছুই সীমিত সক্ষমতার স্বাস্থ্য ও উদ্ধার ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বর্তমান হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী সময়ের হলেও গাজায় সামগ্রিক প্রাণহানির চিত্র আরও ভয়াবহ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৭৩ হাজার ৩৮৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৪২ জন।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে গাজার আবাসিক এলাকা, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক প্রয়োজনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন প্রাণহানি ঘটতে থাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান এবং গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হামাসের অস্ত্র রাখা বা নিরস্ত্রীকরণ। হামাসের বক্তব্য, ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; এর সঙ্গে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, অঞ্চলটির পুনর্গঠন, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্নও যুক্ত।
হামাদ আরও বলেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা থাকার কথা নয়। তাঁর দাবি, এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া হলে তা একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়া উচিত।
এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায় নিয়ে আলোচনায় শুধু হামলা বন্ধ করাই নয়, গাজার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার প্রশাসনিক কাঠামো—প্রতিটি বিষয়ই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্থায়ী শান্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে যে বিপুল মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।
একদিকে ফিলিস্তিনিরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠনের নিশ্চয়তা চাইছে। অন্যদিকে হামাসের অস্ত্র ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ইসরায়েল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এখনো পুরোপুরি এক নয়।
ফলে গাজার যুদ্ধবিরতি এখনো একটি ভঙ্গুর সমঝোতার পর্যায়ে রয়েছে। নতুন হামলায় প্রাণহানি বন্ধ করা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোই সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
> ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মা
> ন্যাটোর ঐক্য পরখে সীমিত হামলার পরিকল্পনা পুতিনের, মার্কিন গোয়েন্দাদের চরম সতর্কতা
> বন্দরে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন, শিশু মারুফের করুণ মৃত্যু
> পুলিশ প্লাজায় গোপন বৈঠকের অভিযোগে আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী রিমান্ডে
> মাইকে ঘোষণা দিয়ে নবীনগরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
> মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি
> ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের আধিপত্য নিয়ে চরম উত্তেজনা, শিবিরের প্রবেশচেষ্টা পণ্ড
> পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতার রহস্যমৃত্যু, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও
> রাজবাড়ীতে পাওনা টাকার বিরোধে প্রকাশ্যে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
> ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্টে বন্ধ হচ্ছে থার্ডপার্টি ইমেইল সুবিধা
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের তালিকা ও ফোন নম্বর
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> বানরের আতঙ্কে ভীত লালবাজারবাসী ডিসি বরাবর আবেদন
> চাটখিলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য