জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত ও কৌশলগত মারিব প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষিপ্রগতির ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই সমন্বিত আঘাতে ইয়েমেন সরকারের অন্তত ৩০ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনেরও বেশি সৈনিক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের দায়িত্বশীল সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। আহতদের অনেকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
ইয়েমেনি সামরিক সুত্র থেকে জানা গেছে, মারিবের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ সীমান্ত থেকে অন্তত আটটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একঝাঁক ড্রোন ছুড়ে মারায় আক্রমণটি বেশ ভয়াবহ রূপ নেয়। মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল হাদরামাউত প্রদেশের আল-থিনিয়া ও আল-আবর সেনাঘাঁটি এবং মারিবের আল-রুক এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোকে। এই হামলাকে হুথিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
হামলার দায় স্বীকার করে হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেন, বিশেষ ড্রোন ও নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের এই যৌথ হামলায় তাদের শত্রু শিবিরের ‘শত শত’ সদস্য হতাহত হয়েছে।
গত চার বছরের আপেক্ষিক যুদ্ধবিরতি ও ভঙ্গুর শান্তির পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে এই পুরনো সংঘাত আবার রূপ নিয়েছে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে। ইয়েমেনি সেনাঘাঁটিতে রক্তপাতের পাশাপাশি পাশের দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও জলপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা, এমনকি লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় রিয়াদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক জাহাজেও তারা চড়াও হয়েছে।
২০১৪ সালে রাজধানীর সানা দখল করে হুথিরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা তৎকালীন ফার্স্ট ম্যান আবদ্রাব্বুহ মানসুর হাদিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনি সরকারকে পুনর্বাসনে মাঠে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোট। তবে গত এক দশকের রক্তক্ষয়ী ছায়াযুদ্ধে হুথিদের সানা থেকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। লোহিত সাগর ও দেশটির তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে এখন আগের মতোই সমান্তরাল শক্তি হিসেবে অবস্থান জানান দিচ্ছে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি।
মন্তব্য