খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম

একজন মানুষ মারা গেলেন পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে। কিন্তু মৃত্যুর কারণ দেখানো হয় গুলি করে হত্যা। আর সেই মামলায় একসঙ্গে আসামি করা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৪ জনকে।
একটি মৃত্যু কীভাবে বদলে গেল ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের’ মামলায়? তদন্ত শেষে বেরিয়ে এলো একেবারে ভিন্ন গল্প।
ঘটনাটি বগুড়ার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রিপন ফকিরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ৪ আগস্ট মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে রিপন মারা যান। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৪ জনকে আসামি করা হয়।
কিন্তু তদন্ত শুরু হওয়ার পর একের পর এক তথ্য বদলে দিতে থাকে পুরো ঘটনার চিত্র। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২২ জনের সাক্ষ্য নেন। এজাহারে যে জায়গায় গুলির ঘটনার কথা বলা হয়েছিল, সেই এলাকার কয়েকজন কর্মী জানান, তারা এমন কিছুই দেখেননি। বরং একাধিক সাক্ষী বলেন, ৫ আগস্ট রিপন ফকির পাউরুটি খাওয়ার সময় গলায় আটকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। দোকানিও একই তথ্য দেন।
এরপর সামনে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। নিহতের স্ত্রী মাবিয়া বেগম বলেন, গ্রামের কয়েকজন তাকে বলেছিলেন— মামলা করলে রিপনকে ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে, পাওয়া যেতে পারে সরকারি অনুদান। সেই আশাতেই তিনি থানায় গিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এজাহারে তথ্যগত ভুল ছিল। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
একটি মৃত্যু। দুটি ভিন্ন গল্প। আর একটি মামলার ভেতর উঠে আসা প্রশ্ন— যদি তদন্ত না হতো, তাহলে কি এই ঘটনাই সত্য হিসেবে থেকে যেত? ভুয়া বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে করা মামলা শুধু আসামিদের নয়, বিচার ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের সঠিক প্রয়োগই হতে পারে ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ।
মন্তব্য