জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম

ফিফা আরব কাপের রানার্সআপ হওয়ার পরও জর্ডান ফুটবল দলের প্রাপ্য পুরস্কারের অর্থ এখনো হাতে পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের দাবি, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতেই তাদের পাওনা অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। তবে ফিফার পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আরব কাপের ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল জর্ডান। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয় লড়াইয়ে ৩-২ গোলে হেরে যায় জর্ডান। শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে রানার্সআপ হিসেবে পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার কথা ছিল তাদের।
জর্ডানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাইনালে পরাজয়ের পর প্রাপ্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা সমপরিমাণ পুরস্কার অর্থ এখনো ফিফা তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) কাছেও জানিয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে এনেছেন ফিফার সাবেক সহ-সভাপতি প্রিন্স আলি বিন আল হুসেন। তিনি দাবি করেছেন, জর্ডানকে ফিফার পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে জানানো হয়েছিল যে, সংস্থাটির সভাপতি ইনফান্তিনোকে সমর্থন করলে দেশটির ফুটবল উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হুসেন অভিযোগ করেন, ফিফার নেতৃত্ব জর্ডানের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানালে জর্ডানের ফুটবলের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে জর্ডান এখনো সেই সমর্থন দেয়নি।
হুসেন বলেন, এই পরিস্থিতিতে চাপের মুখে কোনো ধরনের সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাঁর অভিযোগ, সেই কারণেই জর্ডানের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফিফা সবসময় নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে। কিন্তু একই সময়ে একটি সদস্য দেশের প্রাপ্য অর্থ দীর্ঘদিন আটকে রাখা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। হুসেনের ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে ফিফার কাছ থেকে জর্ডান প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছে না।
ফিফা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন, সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প এবং আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে অতীতেও সংস্থাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হয়েছে।
জর্ডানের এই অভিযোগ এখন ফুটবল প্রশাসনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। পুরস্কারের অর্থ আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে ফিফার অবস্থান এবং অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হলে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে জর্ডান ফুটবল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এএফসির হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য