জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম

নেত্রকোনা সদরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান চলাকালে পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে হরিখালী খালে পড়ে সাব্বির মিয়া (২১) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত সাব্বির নেত্রকোনা শহরের মেছুয়াবাজার এলাকার পান-সিগারেট ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিনের ছেলে এবং নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার হরিখালী খাল এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
জেলা পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল গত মঙ্গলবার বিকেলে আমতলা এলাকার ময়মনসিংহের রুহী গ্রামে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সদর উপজেলার হরিখালী খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন যুবক ভয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা খালের পানিতে পড়ে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসী সাঁতরে কয়েকজনকে উদ্ধার করে খালের পাড়ে বা সড়কে নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে সাব্বিরকে আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষ্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশের দলটি উদ্ধার হওয়া ওই মুমূর্ষ্য যুবককে দ্রুত উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত সাব্বিরের পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের বোন পূর্ণিমা আক্তার এবং বন্ধু জিহাদ মিয়া এ মৃত্যুকে অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, সাব্বির সচরাচর বাইরের কোনো খাবে বা উন্মুক্ত জলাশয়ে গোসল করতে যেতেন না। খালের পানিতে পড়ে যদি তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেন ভিজে পকেটে রইল—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়; এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য থাকতে পারে। তাঁরা ডিবির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন ওই যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে এনে রেখে যাওয়া হলো? একই সাথে এই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
পরিবারের দাবি: “সে তো বাইরে এভাবে গোসল করতে যায় না। খালে পড়ে মারা গেলে তাঁর মোবাইল ফোন পকেটে থাকবে কেন? এ মৃত্যু একেবারেই স্বাভাবিক নয়, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাজহারুল আমিন জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল মুমূর্ষ্য অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তৎক্ষণাৎ ডিউটি ডাক্তার তাঁর ইসিজি (ECG) পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় নিহতের পরনের পোশাক ও শরীর সম্পূর্ণ ভেজা অবস্থায় ছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর সঠিক ও প্রকৃত কারণ কেবল ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডিবি পুলিশের দল মাদকের অভিযানে যাওয়ার সময় পুলিশ দেখে কতিপয় যুবক ভয় পেয়ে হরিখালী খালে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করার পর পুলিশ মুমূর্ষ্য অবস্থায় সাব্বিরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য