জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১২:২৩ এএম

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সারাদেশে দ্রুত ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণের দ্রুত গতি ও প্রাণহানির হার বিবেচনায় এটিকে ওই অঞ্চলের অন্যতম মারাত্মক স্বাস্থ্য দুর্যোগ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
কঙ্গো সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত তথ্য। এবার মূলত ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) ধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮০২ জন ইবোলা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৭০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসা আরও ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তৈরি করেছে অতিরিক্ত চাপ।
ইতিহাসে এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম। তবে গতি ও বিস্তারের দিক থেকে এটি সবচেয়ে দ্রুত ছড়ানো প্রাদুর্ভাব। অন্যান্য প্রচলিত ইবোলা স্ট্রেইনের প্রতিষেধক কিংবা ওষুধ বাজারে থাকলেও বিরল বুন্দিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি, যা চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশ্য কাজ শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংকট মোকাবেলায় নজিরবিহীন গতিতে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা, প্রতিষেধক ওষুধ ও ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘আর অ্যান্ড ডি ব্লুপ্রিন্ট’ কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ভাসী মুরথি জানান, বহু বছরের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এবার আন্তর্জাতিক দলগুলো দ্রুত মাঠে নামতে পেরেছে। বিগত ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর অভিজ্ঞতার কারণে এবার অনেক আগেই পরীক্ষামূলক ওষুধের ট্রায়াল শুরু করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক ল্যাব পরীক্ষার উপাত্তগুলো আশাব্যঞ্জক হওয়ায় শিগগিরই কোনো কার্যকর প্রতিষেধক খুঁজে পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করছে সংস্থাটি।
মন্তব্য