জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ পিএম

দেশজুড়ে মারাত্মক থাবা বসিয়েছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। প্রতিদিনই নতুন করে আশঙ্কাজনক হারে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ৫৮০ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, সারাদেশে মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু রোগী বাড়ার চিত্র বেশ জটিল রূপ নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত একদিনে মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে ১ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একটি হাসপাতালে, ১ জন খুলনা বিভাগের হাসপাতালে এবং অপর জন সিলেট বিভাগের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁরা শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই ৩ জন নতুন রোগীর মৃত্যুর খবরে চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা এসে দাঁড়াল ৫৯ জনে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫৮০ জন রোগীকে যুক্ত করে চলতি বর্ষা মৌসুমে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৮৪ জন ছুঁয়েছে।
স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যমতে, কেবল রাজধানীতেই নয়, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা হাসপাতালেও ক্রমশ ভিড় বাড়ছে রোগীদের। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ায় সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে এই জ্বর। বিশেষ করে খোলা পাত্র, জমে থাকা বৃষ্টির পানি ও ছাদবাগানে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকার কারণে রোগ বহনে সক্ষম মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর ধরন বা রূপ ঘন ঘন পরিবর্তিত হওয়ায় রোগী দ্রুত প্লাটিলেট কমে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারে। সেজন্য উচ্চমাত্রার জ্বর পরিলক্ষিত হওয়া মাত্রই প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অবিলম্বে চিকিৎসকের স্বর্ণাপন্ন হতে হবে। একই সাথে জমে থাকা পানি অপসারণ করা ও ঘুমানোর সময় সার্বক্ষণিক মশারি টাঙানোর মাধ্যমে সতর্ক থাকাই এখন সুরক্ষার একমাত্র কার্যকর উপায়।
মন্তব্য