জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২৩ পিএম

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে জায়গা পেলেও নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়া ভালেন্তিন বার্কোকে এবার স্থায়ীভাবে দলে ভিড়িয়েছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। ফরাসি ক্লাব আরসি স্ত্রাসবুর থেকে ২১ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে সাত বছরের চুক্তিতে সই করিয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি।
বার্কোকে চেলসিতে নেওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত এপ্রিলেই। তবে চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে প্রায় চার মাস সময় নেয় ক্লাবটি। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে তাকে দলে নিয়ে চেলসি যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এগোচ্ছে, এই সিদ্ধান্তে তারই ইঙ্গিত মিলছে।
বোকা জুনিয়র্সের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা বার্কোর ইউরোপীয় ফুটবলে পথচলা শুরু হয় ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের হাত ধরে। ২০২৩ সালে প্রায় এক কোটি ইউরোতে আর্জেন্টাইন ক্লাবটি থেকে তাকে দলে নেয় ইংলিশ ক্লাবটি। ইউরোপে আসার পর নিয়মিত খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে তাকে ধারে পাঠানো হয় স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ায়। এরপর পরবর্তী মৌসুমে ফ্রান্সের স্ত্রাসবুরে ধারে খেলেন তিনি।
স্ত্রাসবুরে কাটানো সময়টাই বার্কোর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে ওঠে। গত দেড় বছরে ক্লাবটির হয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। মাঠে তার বহুমুখী ভূমিকা কোচদের নজর কাড়ে। মূলত মাঝমাঠে খেললেও প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁ দিকের বিভিন্ন পজিশনেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন এই ফুটবলার।
লেফট-ব্যাক থেকে লেফট-উইঙ্গার—দুই প্রান্তেই খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বার্কোর। বল নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণে ওঠার দক্ষতা এবং বিভিন্ন পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে দলের জন্য কার্যকর করে তুলেছে। আধুনিক ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের একাধিক পজিশনে খেলার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, আর বার্কোর এই গুণই তাকে চেলসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় দলেও এরই মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন বার্কো। গত দেড় বছরে আর্জেন্টিনার হয়ে পাঁচটি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও ছিলেন এই তরুণ ফুটবলার। যদিও টুর্নামেন্টে তার খেলার সুযোগ সীমিত ছিল এবং মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটির কারণে বার্কোকে আলাদা করে মনে রেখেছেন অনেক দর্শক। ম্যাচ শেষে তার অতিরিক্ত উদযাপন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহামের সঙ্গে একটি ঘটনাও আলোচনায় আসে, যেখানে ম্যাচ শেষে বার্কোর কানে হালকা চড় দেওয়ার দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
চেলসিতে বার্কোর আগমন এমন এক সময়ে হলো, যখন ক্লাবটির মাঝমাঠের পরিকল্পনা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফের্নান্দেজকে ঘিরে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেই আবহের মধ্যেই বার্কোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ঘোষণা দিল চেলসি।
বার্কোর ক্যারিয়ারে এটি নিঃসন্দেহে বড় একটি পদক্ষেপ। বোকা জুনিয়র্স থেকে ব্রাইটন, সেভিয়া ও স্ত্রাসবুর হয়ে এবার চেলসি—মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ইউরোপীয় ফুটবলে তার পথচলা বেশ দ্রুতই এগিয়েছে। এখন ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম বড় মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই হবে তার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ। সাত বছরের চুক্তি অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে দিয়েছে, চেলসি তাকে শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের দল গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখছে।
মন্তব্য