জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৬:১১ পিএম

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৪২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে। আর বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১০৪ জনে পৌঁছেছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুইজনের মধ্যে একজন বরিশাল বিভাগে এবং অন্যজন খুলনা বিভাগে মারা গেছেন। নতুন মৃত্যুর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও এর জটিলতা নিয়ে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ হাজার ১০৪ জন। গত এক দিনে ৪২৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর চাপও বাড়ছে।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন ঘটে। তাই বর্ষাকালে এবং বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে ডেঙ্গুর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং চোখের পেছনে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর অবস্থায় রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে জ্বর কয়েক দিন ধরে স্থায়ী হলে বা রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১০৪ জন।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নিয়মিতভাবে বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, পানি জমতে পারে এমন পাত্র উল্টে রাখা বা অপসারণ করা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার ব্যবস্থা নেওয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গু এখনো দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশা নিধন ও প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য