জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২৪ পিএম

দেশে হামের উপসর্গ ও হামজনিত অসুস্থতায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববার প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকায় এবং একজন সিলেটে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে কারও মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে, আর কারও ক্ষেত্রে হামের উপসর্গকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত সাড়ে চার মাসে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ৭৪৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গ—দুই শ্রেণি মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৪।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২ শিশু। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১১৫ শিশুর। সব মিলিয়ে গত এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ১৩৭।
চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে আক্রান্তের সামগ্রিক সংখ্যা। গত সাড়ে চার মাসে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ শিশু। একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ২৯৫ শিশুর শরীরে। দুই হিসাব একত্র করলে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৮।
তবে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত সাড়ে চার মাসে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ শিশু। এর মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে ৮৮৬ শিশু।
পরিসংখ্যান বলছে, একদিকে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে হাম ও হামের উপসর্গের বিস্তার এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও চালু রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য