জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

সারা দেশে হাম এবং হামের মতো উপসর্গ নিয়ে অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন এই চার মৃত্যুর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫ জনের শরীরে হাম অথবা এ রোগের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে প্রতিদিনের নতুন রোগী শনাক্ত, হামের উপসর্গ, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া এবং মৃত্যুর সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছে আরও একজন করে শিশু। অল্প বয়সী রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৯ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর। অর্থাৎ, মোট মৃত্যুর বড় অংশই হামের উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে ঘটেছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৮৭০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এক দিনেই হাম শনাক্ত ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৫ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৭৪ জনের। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, হাম ও হামসদৃশ অসুস্থতা নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছেন। একই সঙ্গে রোগ নির্ণয়, পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ফলে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে এখনও উদ্বেগজনক করে রেখেছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গের পর শরীরে র্যাশ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অসুস্থতার তীব্রতা বেশি হলে জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে অপুষ্টি বা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
চলমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও নজরদারির পাশাপাশি আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে উঠেছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর ও শরীরে র্যাশসহ হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুলাইয়ের পরিসংখ্যান সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাপকতা স্পষ্ট করছে। একদিকে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে, অন্যদিকে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা যোগ হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনগুলোতে প্রতিদিনের তথ্য প্রকাশ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির পরিবর্তন ও ঝুঁকির মাত্রা পর্যবেক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য