জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাত বেঁধে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ছুরি দেখিয়ে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র জনরোষের মুখে অভিযান চালিয়ে জকরিয়া (৩০) নামের এক অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্প-১৮-এর কে-০৯ ব্লকের একটি স্থানীয় চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে জকরিয়াকে আটক করা হয়। সে ক্যাম্প-১৮-এর কে-০১ ব্লকের বাসিন্দা। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ২৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, হাত বাঁধা অবস্থায় এক নিষ্পাপ শিশুকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। শিশুটি ভয়ে ও আতঙ্কে কান্নাকাটি করে জীবন ভিক্ষা চাইছিল। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতেই তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্প তাৎক্ষণিকভাবে এর ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা সূত্র এবং স্থানীয় রোহিঙ্গা হেড-মাঝি ও সাব-মাঝিদের সহায়তায় অপরাধীর অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়।
অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নির্যাতিত শিশুটির নাম রহমত আলী (৬)। সে উখিয়া ক্যাম্প-১১-এর ই-৪ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ জুনাইদের ছেলে। গত ২২ জুলাই অপরাধী চক্রটি শিশু রহমতকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। এরপর পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দিয়ে নির্যাতনের ওই ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠায় চক্রটি।
সন্তানের জীবন রক্ষায় বাধ্য হয়ে স্বজনেরা অপহরণকারীদের দাবিকৃত ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করেন। পরবর্তীতে রোববার শিশুটিকে ফেরত দেয় অপহরণকারীরা। কিন্তু অপরাধীদের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকির কারণে অসহায় পরিবারটি শুরুতে পুলিশের কাছে যেতে সাহস পায়নি। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি আমলে নিয়ে জকরিয়াকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
এপিবিএন অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং সহিংসতা রুখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত জকরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য