জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ১২:১ এএম

বিজ্ঞাপনচিত্রে চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে হত্যাচেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী (ইসরাত জাহান)। তাঁর অভিযোগের তীর আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দিকে। এ ঘটনায় তিনি ঢাকার খিলক্ষেত থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে আশিয়ান গ্রুপ এসব দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, একটি নতুন বিজ্ঞাপনের কাজ নিয়ে আলোচনার কথা বলে গত শুক্রবার তাঁকে খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থিত আশিয়ান মেডিকেল কলেজ কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কার্যালয়ে প্রবেশের পরপরই নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁর ওপর চড়াও হন এবং ভুলবশত অন্য এক নারী ভেবে নির্যাতন চালাতে থাকেন।
অভিযোগে স্নিগ্ধা উল্লেখ করেন, আলোচনার একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া সরাসরি তাঁর দিকে একটি শটগান তাক করেন। এরপর তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে কাঠের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক আঘাত করা হয় এবং চুল ধরে টানাহেঁচড়া চালানো হয়। স্নিগ্ধা যখন এই আক্রমণের কারণ জানতে চান, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে ‘জেবা টাকিয়া’ নামে এক নারী বলে দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।
স্নিগ্ধা চৌধুরী অনুনয় করে জানান যে তিনি জেবা টাকিয়া নন, বরং পেশায় একজন অভিনেত্রী। তবে তাঁর এই পরিচয় বিশ্বাস করতে চাননি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান। অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্যাতনের সময় জোরপূর্বক তাঁর মুখ চেপে ধরে নেশাজাতীয় তরল দ্রব্য পান করানো হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি কক্ষ ছেড়ে অন্য কক্ষে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কৌশলে সুযোগ বুঝে ভবনটি থেকে পালিয়ে বের হন স্নিগ্ধা। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পরদিন বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন এই অভিনেত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি শারীরিক আঘাতের নানা চিহ্ন তুলে ধরে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে স্নিগ্ধা বলেন, তিনি যদি এই অন্যায়ের সঠিক বিচার না পান, তবে বাধ্য হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন। এমনকি নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নামও লিখে যাবেন বলে সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে, স্নিগ্ধা চৌধুরীর আনা সমস্ত অভিযোগ এক বাক্যে খণ্ডন করেছে আশিয়ান গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মহাব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস) সৈয়দ শফিকুল ইসলাম এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, তাঁদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আশিয়ান গ্রুপের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই আইনি প্রতিক্রিয়া ও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আশিয়ান গ্রুপ দেশের প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে খুব শিগগিরই ঘটনার মূল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করছে। একই সাথে, একতরফা অভিযোগে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আশিয়ান গ্রুপ।
খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা অনুসন্ধানে আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য