জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৪ পিএম

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মুদি ব্যবসায়ী রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—খুরশিদ আলম, সালাম ও খায়রুল। মামলার অপর আসামি এরশাদকে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকালে বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজার এলাকায় রেজাউল শেখকে মারধর করা হয়। সকাল ৮টার দিকে পৈতৃক সম্পত্তিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাতা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে রেজাউল গুরুতর আহত হন।
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহত রেজাউল শেখের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন ওই দিন সন্ধ্যায় বটিয়াঘাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কলম বক্সের ছেলে আ. সালাম, সালাম শেখের দুই ছেলে মো. খুরশিদ আলম ও মো. খায়রুল শেখ এবং একই এলাকার কালা বাবুর ছেলে এরশাদকে আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তী সময়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান এবং তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। তবে অপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় সাত বছর আগে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। জমিজমা ও পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে আদালতের রায়কে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিলসহ সংশ্লিষ্ট আইনি প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মন্তব্য