জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৪:১ পিএম

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ প্রতিভা হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কাভান সুলিভান। এবার তার ফুটবলের বুটে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির পাশাপাশি বাংলাদেশের পতাকার উপস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে তার পারিবারিক শিকড়ের গল্প। মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে এই প্রতীকী সংযোগ বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি করেছে বাড়তি আগ্রহ।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও বংশপরিচয়ের প্রতি সম্মান জানাতেই কাভান তার বুটে তিন দেশের পতাকা ব্যবহার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও বাংলাদেশ—এই তিন দেশই তার পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। ফলে বুটে পতাকাগুলোর উপস্থিতি শুধু নান্দনিক কোনো সংযোজন নয়; বরং নিজের পরিচয় ও পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রতি তরুণ ফুটবলারের শ্রদ্ধার প্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
২০০৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় জন্ম কাভান সুলিভানের। তিনি মূলত একজন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। তার মা হেইকে জার্মান-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং তার নানী সুলতানা আলম বাংলাদেশের নাগরিক। অন্যদিকে, তার বাবা ব্রেন্ডন সুলিভান সাবেক ফুটবলার। পরিবারের ফুটবল ঐতিহ্যও বেশ সমৃদ্ধ। চার ভাইয়ের পরিবারে ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় ছোটবেলা থেকেই কাভান খেলাটির পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন।
কাভানের প্রতিভার স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও। তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে প্রকাশিত একটি আলোচিত তালিকায় লামিনে ইয়ামাল, এস্তেভাও উইলিয়ান, পাও কুবার্সি, জাইরি এমেরি ও এনড্রিকের মতো সম্ভাবনাময় তারকাদের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন তিনি। তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৩০তম। এত অল্প বয়সে এমন তালিকায় জায়গা করে নেওয়া তার সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়।
এরই মধ্যে মেজর লিগ সকারে ইতিহাস গড়েছেন কাভান। গত বছর সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে এমএলএসে অভিষেক হয় তার। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে পা রাখার পর থেকেই তার প্রতি নজর বাড়তে থাকে। লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির বিপক্ষে একটি ম্যাচের স্কোয়াডেও ছিলেন তিনি। তার প্রতিভা ও দ্রুত উত্থানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলমহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। দেশটির কিছু সমর্থক এরই মধ্যে তাকে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন।
কাভানের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার গুঞ্জন প্রকাশ পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করার পর ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে পাড়ি জমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে তার জন্য। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাবনা ও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
সুলিভান পরিবারের ফুটবল পরিচয় অবশ্য কাভানেই শেষ নয়। তার বড় ভাই কুইন সুলিভানও ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের নজরে রয়েছেন। চলতি মৌসুমে তার পারফরম্যান্সও প্রশংসিত হয়েছে। ১৪ ম্যাচে একটি গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করে তিনি জাতীয় দলের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর নজর কেড়েছেন। গোল্ড কাপের প্রাথমিক দলেও জায়গা পেয়েছেন তিনি।
এই পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র আরও বিস্তৃত। চার ভাই—কুইন, ডেক্লান, রোনান ও কাভান—সবাই কোনো না কোনোভাবে পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। ডেক্লান ও রোনান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। রোনান পুরো টুর্নামেন্টে নিয়মিত একাদশে খেলেছেন, আর ডেক্লান বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন। বাংলাদেশের ফুটবলে সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবে তাদের নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ফলে কাভান সুলিভানের বুটে বাংলাদেশের পতাকা যুক্ত হওয়া নিছক একটি প্রতীকী ঘটনা নয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত এক তরুণ প্রতিভার সঙ্গে বাংলাদেশের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগও সামনে এসেছে। কাভানের ফুটবল ক্যারিয়ার যত এগোবে, তার বুটে থাকা বাংলাদেশের পতাকাটিও তত বেশি করে মনে করিয়ে দেবে—বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে বাংলাদেশের সঙ্গে তার পরিবারের একটি আবেগের যোগসূত্র রয়েছে।
মন্তব্য