জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুলাই ২০২৬, ৭:২৯ পিএম

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১০ জনে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার মধ্যেই হামের উপসর্গ ছিল। একই সময়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৪ জন। এর বাইরে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন। এতে বোঝা যায়, সংক্রমণ বাড়লেও চিকিৎসার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ৮১০ জনের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৫ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭১৫ জন। গত একদিনে যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের সবার ক্ষেত্রেই হামের উপসর্গ ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এর পাশাপাশি সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে টিকাদানের ঘাটতি, পুষ্টিহীনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস সহজেই অন্যদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শুরুতে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে দানা দেখা দেওয়া এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। রোগ প্রতিরোধে সময়মতো টিকা গ্রহণকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে গণটিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে দানা, কাশি বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিচে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| প্রতিবেদনের তারিখ | ২৪ জুলাই |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ৫ জন শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত | ১,১৩৭ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃত্যু | ৮১০ জন |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ৯৫ জন |
| হামের উপসর্গে মৃত্যু | ৭১৫ জন |
| পরীক্ষায় নিশ্চিত আক্রান্ত | ১৫,১৯৪ জন |
| উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগী | ১,২২,১৫০ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি | ১,০৪,৭১৭ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা | ১,০১,০৫৬ জন |
মন্তব্য