খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণাঞ্চলের আটটি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্তমান বৈরী আবহাওয়া ও মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় প্রভাবের কারণে নদীপথ ও উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিসের বুলেটিন অনুযায়ী, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় এসব অঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রসহ ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হঠাৎ করে আবহাওয়ার এই অবনতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নদী অববাহিকায় চলাচলকারী ছোট নৌযান, যাত্রীবাহী লঞ্চ এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে গভীর নদীতে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সামুদ্রিক ও নদীবন্দরের ট্রাফিক বিভাগগুলোকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের অপর একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলমান মৌসুমী বায়ুর অক্ষের প্রভাবে শুধু এই আট জেলাই নয়, বরং দেশের প্রতিটি বিভাগেই আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে কোনো কোনো অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাসও রয়েছে। টানা বর্ষণের ফলে শহরাঞ্চলের নিচু এলাকায় জলমদ্ধতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু অংশে ভূমিধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কৃষিবিদরা মনে করছেন, এই মৌসুমি বৃষ্টি ধান ও অন্যান্য ফসলের জন্য যেমন কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি অতিরিক্ত ঝোড়ো হাওয়া ও অতিবৃষ্টির ফলে কাঁচা ফসলের খেত সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।
মন্তব্য