খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৮:১১ পিএম

সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই কেবল ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার বহুল আলোচিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ওয়াশিংটনের এই নতুন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। ট্রাম্প জানান, রিয়াদকে কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্যই পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির অধীনে নিজেদের মাটিতে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমোদন বা সুযোগ সৌদি আরবের থাকবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প বিস্তারিত উল্লেখ করে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা হতে পারে। বর্তমানে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) একাধিক দেশের কাছে এ ধরনের প্রযুক্তি সুবিধা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে অসামরিক পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধী নয়। তবে রিয়াদের ক্ষেত্রে এই সার্বিক বেসামরিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হওয়া সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের ওপর।
এর আগে দীর্ঘ আলাপের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি দ্বিপাক্ষিক বেসামরিক পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ এবং নির্দিষ্ট শর্তে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব আলোচনায় এসেছিল। পূর্বে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) যেসব কঠোর ও তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা ছিল, সৌদি আরবের সঙ্গে খসড়া প্রস্তাবে তা অনেকটাই শিথিল রাখা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সেই চুক্তিকে সরাসরি ইসরায়েল-সৌদি কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণের সঙ্গে বেঁধে দিল।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা। এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করেছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই চাপের বিপরীতে সৌদি আরব নিজেদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে এখনো অটল রয়েছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে, স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি স্থায়ী এবং বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করবে না কিংবা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে না। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন শর্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ওয়াশিংটন-রিয়াদ প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক আলোচনাকে এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিল।
মন্তব্য