খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৮:১ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাকশ্রমিক সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সাবেক স্বামী নয়, বরং বিয়ে করার চাপ দেওয়াতেই পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানের (২৫) হাতে শ্বাসরোধে খুন হতে হয়েছিল সাদিয়াকে। নারায়ণগঞ্জ আমলি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে নিজেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রাজ্জাক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্যাদি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির পরিদর্শক মিন্টু কুমার।
পিবিআই জানায়, ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গত ২১ জুলাই ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় রাজ্জাকের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের দিন তাঁর পরা বিশেষ ক্যাপ ও নিহতের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিহত সাদিয়ার ছিনতাইকৃত ও বিক্রি করে দেওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বুধবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে হাকিমের খাসকামরায় তিনি এই খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ১২ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণী পোশাকশ্রমিক সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রাথমিক সন্দেহের বশে ঘটনার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে নিহত সাদিয়ার সাবেক স্বামী ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে পিবিআই পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে ঘটনার গভীরে ঢুকে আসল রহস্য বের করে আনে।
প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখে পিবিআই জানায়, সাবেক স্বামী ইব্রাহিমের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সাদিয়ার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপরই প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। একপর্যায়ে রাজ্জাককে ভুয়া স্বামী বানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন সাদিয়া। কিছুদিন ধরে রাজ্জাককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের জন্য তাগিদ ও মানসিক চাপ দিতে থাকেন তিনি।
গত ১২ জুলাই রাতে বিয়ে নিয়ে সাদিয়ার সঙ্গে রাজ্জাকের তুমুল ঝগড়া ও কথাকাটাকাটি শুরু হয়। ক্ষোভের বশে একপর্যায়ে রাজ্জাক নিস্তব্ধ রাতে সাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘরের দামি মালামাল, মোবাইল ও অলংকার নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘাতক প্রেমিকের গ্রেপ্তার এবং আদালতে স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার জট খুলল।
মন্তব্য