খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম

সাভারে গণপিটুনিতে আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) নামে এক প্রতিবন্ধী জেলে নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার উলাইলের কর্ণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি সাভার এলাকায় অবস্থান করতেন বলে জানা গেছে।
গ্রেফতার দুজন হলেন রিকশাচালক সবুজ ও একটি গ্যারেজের মালিক নুরুজ্জামান। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সাভারের উলাইল কুদঘর এলাকায় আবুল খায়েরকে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে নুরুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীরা আহত আবুল খায়েরকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আবুল খায়েরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁরা মরদেহ হাসপাতালে রেখেই সেখান থেকে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তবে কী কারণে আবুল খায়েরকে মারধর করা হয়েছিল বা কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গণপিটুনির সূত্রপাত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। পরে মামলার তদন্ত ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, আবুল খায়ের পাটোয়ারীকে মারধর ও গণপিটুনির ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর বা গণপিটুনি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য