খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৪৫ পিএম

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলার মৌশা গ্রামে ঘটে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো বোন। তাদের একজনের বয়স দুই বছর এবং অন্যজনের তিন বছর। অল্প বয়সী দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত শিশুরা হলো—মৌশা গ্রামের আমিনুর রহমানের দুই বছর বয়সী মেয়ে রাইসা এবং তাঁর ভাই আলীনূর রহমানের তিন বছর বয়সী মেয়ে রাফিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে দুই চাচাতো বোন বাড়ির বাইরে খেলতে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাদের আশপাশেই ছিলেন বলে জানা গেলেও কোনো একসময় শিশু দুটি সবার অগোচরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। প্রথমে বাড়ির ভেতর ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তাদের খোঁজা শুরু হয়। পরে প্রতিবেশীরাও শিশু দুটির সন্ধানে যোগ দেন।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে শিশু দুটিকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। দ্রুত তাদের পানি থেকে তুলে আনার পর উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা দেরি না করে দুই শিশুকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে রাইসা ও রাফিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের এই ঘোষণায় স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের মাতম। দুই শিশুর মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মৌশা গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেক বাড়ির আশপাশেই পুকুর, ডোবা কিংবা অন্যান্য জলাশয় রয়েছে। অল্প বয়সী শিশুরা খেলাধুলার সময় কখন এসব জলাশয়ের কাছে চলে যায়, তা অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে না। মাত্র কয়েক মিনিটের অসতর্কতাও কখনও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ঠেকাতে বাড়ির আশপাশের জলাশয় ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া, জলাশয়ের চারপাশে নিরাপদ বেড়া বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত নজরদারি এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের পানির কাছাকাছি গেলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে, সে বিষয়ে বয়স উপযোগী সচেতনতা তৈরিও জরুরি।
মৌশা গ্রামের রাইসা ও রাফিয়ার মৃত্যু সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। দুই ও তিন বছর বয়সী দুটি শিশুর জীবন এভাবে অকালে ঝরে যাওয়া পরিবার দুটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। স্বজনদের কাছে এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাওয়া এক গভীর বেদনার গল্প। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নাড়া দিয়েছে এবং বাড়ির আশপাশে থাকা জলাশয় নিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য