,

১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল

সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রত্যাশিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের বিমান খাতের সক্ষমতা বাড়াতে নির্মিত এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পরিচালন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোতে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীতে সিভিল অ্যাভিয়েশন ও এয়ার ট্রাফিক অপারেশন বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি বলেন, প্রকল্পটির কার্যক্রম এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। টার্মিনাল চালুর আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং পরিচালন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নতুন টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাপানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের আগস্টের শেষ ভাগ অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমান চলাচল খাতে অন্যতম বড় ও আধুনিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আধুনিক নকশা, উন্নত যাত্রী ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তৈরি এই টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের সার্বিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে শাহজালালে যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপ দিন দিন বাড়ছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে অতিরিক্ত যাত্রী প্রবাহ সামাল দেওয়া সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিমান চলাচলের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দর এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ড্রোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাই যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের সুরক্ষা বিবেচনায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চলতি বছর একটি আধুনিক এন্টি ড্রোন সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মশালায় দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সমুদ্রসীমার ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইট পরিচালনায় এটিসি ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রেই সহায়ক হবে না, বরং আকাশপথে নিরাপদ, দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্নত এটিসি ব্যবস্থা দেশের বিমান চলাচল খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচলে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নত যাত্রীসেবা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আনার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে নির্ধারিত সময়ে টার্মিনালটি চালু করা এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।