খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৭:১৫ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইতিহাস প্রথম পত্রের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পরীক্ষা চলার পর ভুলটি ধরা পড়লে পরীক্ষা স্থগিত করে সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হলেও এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ইতিহাস প্রথম পত্রের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টায় নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা শুরু হয়। শুরুতে কেউ বুঝতে পারেননি যে প্রশ্নপত্রটি চলতি বছরের নয়। সবাই প্রশ্নপত্র অনুযায়ী উত্তর লেখা শুরু করেন। প্রায় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তারা সেই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে থাকেন। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের সাল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নজরে আসে। যাচাই-বাছাইয়ের পর জানা যায়, পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে।
এরপর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত করে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করে। নতুন প্রশ্নপত্র অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সময়ও বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে বেলা ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা নতুন প্রশ্নের উত্তর লেখার সুযোগ পান।
পরীক্ষার্থী পলক জানান, শুরুতে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর প্রশ্নপত্রের সাল দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে শিক্ষককে জানালে ভুলটি ধরা পড়ে এবং নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
আরেক পরীক্ষার্থী হাসান বলেন, কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অসাবধানতার কারণে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখার পর আবার নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
পরীক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, তাদের কক্ষে চারটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা প্রায় শেষ হওয়ার পর একজন শিক্ষক এসে নতুন প্রশ্নপত্র দেন। তখন পর্যন্ত পরীক্ষার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। পরে আবার নতুন প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর লিখতে হয়েছে। অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও মানসিকভাবে চাপের ছিল।
এ বিষয়ে বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব বাদশা আলমগীর দাবি করেন, কেন্দ্রে সঠিক প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ওই কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৪৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তবে সব কক্ষে একই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। কোন কোন কক্ষে এবং কীভাবে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে।
এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা দেশের লাখো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে প্রশ্নপত্র বিতরণে এ ধরনের ভুল শুধু পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপই বাড়ায় না, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তা সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
মন্তব্য