জি লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ এএম

প্রকৃতির প্রবল বৈরী রূপ, মুষলধারে বৃষ্টি আর অনবরত বজ্রঝড়ের তাণ্ডবে ম্যাচ শুরু হতে বিলম্ব হয়েছিল পুরো ১ ঘণ্টা। তবে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজির হওয়া হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী মেক্সিকান সমর্থকের উন্মাদনায় তা বিন্দুমাত্র ফাটল ধরাতে পারেনি। প্রতিকূল আবহাওয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘরের মাঠের সেই গগনবিদারি গর্জন আর অবিরাম করতালিতে ভর করেই ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মহাকাব্য লিখল মেক্সিকো। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে অনায়াসে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজকরা।
এই মহাকাব্যিক জয়ের হাত ধরে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জেতার পরম স্বাদ পেল মেক্সিকানরা। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাটিতেই নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতেছিল তারা। চার দশক পর আবারও সেই একই ভেন্যু আর একই আবেগের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে মেক্সিকো মেতে উঠেছে বাঁধভাঙা উল্লাসে।
ম্যাচ শুরুর বিলম্ব ফুটবলারদের মনোযোগে কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি। রেফারি খেলা শুরুর বাঁশি বাজানোর পর থেকেই ঘরের মাঠের মেক্সিকো আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে। মেক্সিকান মিডফিল্ডারদের চতুর পাসিং এবং উইঙ্গারদের গতিশীলতার সামনে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে ইকুয়েডর। ম্যাচের প্রথমার্ধেই একটি চমৎকার দলীয় আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন দলের ফরোয়ার্ড।
এক গোল পিছিয়ে পড়ে ইকুয়েডর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু মেক্সিকোর জমাট রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য কিছু সেভ লাতিন দলটিকে বারবার হতাশ করে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর যখন আক্রমণের ধার বাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকো ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করে। বাকি সময়ে ইকুয়েডর আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে না পারলে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথেই স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় মেক্সিকানদের উৎসবের জোয়ার।
মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে এই জয়টি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্বমঞ্চে মেক্সিকো নিয়মিত পারফর্ম করলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব পার হওয়া তাদের জন্য এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে বুলগেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।
এরপরের দীর্ঘ ৪০ বছরে মেক্সিকো প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও নকআউটের প্রথম ম্যাচেই হেরে বিদায় নিত, যা ফুটবল মহলে মেক্সিকোর ‘নকআউট অভিশাপ’ বা ‘ক্রাশ অব দ্য সেকেন্ড রাউন্ড’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছিল। ২০২৬ সালের এই মেগা টুর্নামেন্টে এসে ঘরের মাঠে ইকুয়েডরকে বিদায় করে দিয়ে সেই পুরোনো অভিশাপের বৃত্ত ভাঙল তারা। দীর্ঘ চার দশকের আক্ষেপ কাটিয়ে এই জয় মেক্সিকান ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল।
মন্তব্য