খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সকালে বড় ভাইকে চিরবিদায় জানিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার পরও পরিবারের সদস্যরা শোক সামলে উঠতে পারেননি। এর মধ্যেই রাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পুরো পরিবারকে আরও গভীর বেদনায় নিমজ্জিত করে। একদিনেই দুই সহোদরকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ।
রোববার (২৮ জুন) হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়া এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শুকু কমিশনারের বাড়িতে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একই দিনে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মৃত্যু এ এলাকায় অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এ ঘটনায় শুধু পরিবার নয়, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের পরিচিত মাছ ব্যবসায়ী শাহিন রোববার ভোরে মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতরা বাড়িতে ছুটে আসেন। জোহরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তখনও বড় ভাইয়ের মৃত্যুজনিত শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১০টা ৫০ মিনিটে মারা যান শাহিনের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন। পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চার ভাইয়ের মধ্যে শাহিন ছিলেন সবার বড় এবং আলমগীর ছিলেন মেঝো। তাদের মৃত্যুতে বৃদ্ধা মা, এক বোন, আরও দুই ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকাহত। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন জনি চৌধুরী বলেন, একই দিনে পরিবারের দুই সহোদর ভাইকে হারানোর মতো মর্মান্তিক ঘটনা এই এলাকায় খুব কমই দেখা গেছে। এমন ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মরহুমদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। স্থানীয়দের মতে, একদিনে পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের মনে বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মন্তব্য