খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সুরের এক অনন্য সাধক, প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে স্থান করে নেওয়া জীবন্ত কিংবদন্তি ফেরদৌসী রহমান-এর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা।
প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি তাঁর সুমধুর কণ্ঠ, নিখুঁত পরিবেশনা ও অসাধারণ শিল্পসত্তার মাধ্যমে বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের আবেদন কখনো ম্লান হয়নি। তাঁর গান আজও সমান আবেগে, সমান ভালোবাসায় মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তি আব্বাস উদ্দীন আহমদ-এর স্নেহময় ছায়ায় বেড়ে ওঠা ফেরদৌসী রহমান ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। শিশুশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইলেও, ১৯৫৫ সালে রেডিওতে বড়দের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়েই তাঁর আনুষ্ঠানিক সংগীতজীবনের সূচনা ঘটে।
১৯৫৭ সালে এইচএমভি (HMV) থেকে তাঁর প্রথম গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৫৯ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘এই দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন। পরের বছর, ১৯৬০ সালে ‘আসিয়া’ চলচ্চিত্রেও তাঁর কণ্ঠ দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর নবপ্রতিষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান টেলিভিশনের, বর্তমান বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়েছিল তাঁর গান দিয়েই—যা বাংলাদেশের সম্প্রচার ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
শুধু নিজে গান গেয়েই নয়, নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তুলতেও তাঁর অবদান অনন্য। তাঁর পরিচালিত ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানটি প্রায় ৪৪ বছর ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়ে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও জনপ্রিয় শিশু সংগীত শিক্ষার অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। অসংখ্য শিশুর সংগীতজীবনের প্রথম অনুপ্রেরণা ছিল এই অনুষ্ঠান।
তাঁর অসামান্য শিল্পকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন লাহোর চলচ্চিত্র সাংবাদিক পুরস্কার (১৯৬৩), প্রেসিডেন্টস প্রাইড অব পারফরম্যান্স (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৭৭) এবং স্বাধীনতা পদক (১৯৯৫)-সহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা।
১৯৪১ সালের আজকের দিনে কুচবিহার-এ জন্ম নেওয়া এই মহান শিল্পী কেবল একজন গায়িকা নন; তিনি বাংলাদেশের সংগীত-ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক, এক চলমান ইতিহাস।
শ্রদ্ধেয় ফেরদৌসী রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবন কামনা করছি। তিনি আরও বহুদিন তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও সংগীতসাধনার আলোয় আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আলোকিত করে রাখুন।
শুভ জন্মদিন, সুর সম্রাজ্ঞী।
আপনার কণ্ঠে বাংলা গানের আকাশ আরও বহু বছর অনুরণিত হোক।
মন্তব্য