খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ২:১৫ এএম

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে। ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে এই লিড পায় দলটি। ম্যাচ শুরুর আগে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে উভয় দল এক মিনিট নীরবতা পালন করে।
ম্যাচের শুরুতে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন একটি চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দলের প্রধান তারকা খেলোয়াড় আর্লিং হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড এবং আলেকসান্ডার সরলথকে শুরুর একাদশে (স্টার্টিং লাইন-আপ) না রেখেই দল ঘোষণা করেন।
১ম মিনিট (২৩ সেকেন্ড): কিক অফের পরপরই ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে একটি শট নেন, যা দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৪র্থ মিনিট: ফ্রান্সের মিডফিল্ডার ইব্রাহিমা কোনের একটি শট নরওয়ের গোলকিপার এগিল সেলভিক দক্ষতার সাথে আটকে দেন।
৭ম মিনিট (প্রথম গোল): ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে বক্সে প্রবেশ করে একটি জোরালো শট নেন উসমান দেম্বেলে। নরওয়ের গোলকিপার এগিল সেলভিক এটি প্রতিহত করতে পারেননি। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। চলতি টুর্নামেন্টে এটি দেম্বেলের দ্বিতীয় গোল।
১৪তম মিনিট: নরওয়ে সমতায় ফেরার একটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করে। ফ্রেডরিক অউরেস্নেসের বাড়ানো লং বল বক্সে পা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন। তবে ড্রপ খাওয়া বলে নেওয়া তার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
১৭তম মিনিট: নরওয়ের গোলকিপার সেলভিক ফরাসি তারকা এমবাপের একটি নিশ্চিত গোল প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন।
২০তম মিনিট (দ্বিতীয় গোল): মাঝমাঠ থেকে কিলিয়ান এমবাপের দেওয়া একটি থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নেন দেম্বেলে। বক্সের কয়েক গজ দূর থেকে বাম পায়ের একটি গতিময় শটে তিনি প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে পরাস্ত করে ফ্রান্সের লিড দ্বিগুণ (২-০) করেন।
২১তম মিনিট (নরওয়ের গোল): ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলের ঠিক পরের মিনিটেই নরওয়ে ব্যবধান কমায়। বাম প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে একটি নিচু শটে ফ্রান্সের জাল কাঁপান নরওয়ের মিডফিল্ডার থেলোনিয়াস আসগার্ড। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১।
২২তম মিনিট ও হাইড্রেশন ব্রেক: ম্যাচের প্রথম ২২ মিনিটের মধ্যে দুই দল মিলে মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি শটই ছিল অন-টার্গেট বা লক্ষ্যে। এরপর খেলার তীব্রতা বজায় থাকা অবস্থাতেই নতুন নিয়ম অনুযায়ী একটি ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ দেওয়া হয়।
৩২তম মিনিট (তৃতীয় গোল ও হ্যাটট্রিক): বক্সে বল পেয়ে নরওয়ের তিনজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন দেম্বেলে। এর মাধ্যমে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার মাধ্যমে পিএসজি (PSG) ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে (মিনিটের হিসেবে) দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়লেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিনিটের দিক থেকে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি রয়েছে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রোবস্টের দখলে। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ২৪ মিনিটের মধ্যে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। বোস্টন স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে ৩২ মিনিটে ৩টি গোল করে এরিক প্রোবস্টের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডের পর দ্বিতীয় স্থানে নিজের নাম লেখালেন ফরাসি তারকা দেম্বেলে।
মন্তব্য