জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

নৃশংস হামলায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের জননীর

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে পাঁচ সন্তানের জননী এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার পূর্বধৈইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশিদা আক্তার (৩৬) স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাশিদা আক্তারের স্বামী দেলোয়ার হোসেন একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে পরিবারটি নানা ধরনের চাপ ও বিরোধের মধ্যে ছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা। বৃহস্পতিবার সকালে রাশিদা আক্তার বাড়িতে থাকা সাতটি গরু-বাছুর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা রাশিদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এ সময় তার দুই মেয়ে মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধরের শিকার হতে হয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাশিদা ও তার দুই মেয়েকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশিদা আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে বাখরাবাদ এলাকায় তার মৃত্যু হয়। তার দুই মেয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহতের মেয়ে সামিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, তার মা গরু নিয়ে যাওয়ার সময় রহিম মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েকজন হামলা চালিয়ে তাকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেন। তিনি ও তার বোন বাধা দিতে গেলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

রাশিদার বড় বোন নাসিমা বলেন, নিহতের দুধের শিশুসহ পাঁচ সন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ছিল। স্বজনরা নানা সময় সহযোগিতা করে এলেও এখন শিশু সন্তানগুলো কার্যত মাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই রহিম মেম্বারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিউল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ ও দীর্ঘদিনের শত্রুতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা গ্রামীণ জনপদে মাঝেমধ্যেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে বিচার নিশ্চিত করা গেলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ইতিবাচক বার্তা যাবে বলেও তারা মনে করছেন।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News