লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক ভয়াবহ ঘটনায় একই পরিবারের মা ও চার কন্যার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের ধানহাটা এলাকার নদীর পাড় সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় পরিবারটি মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী অন্তর মজুমদার নামের এক যুবক হঠাৎ করেই বাসাটিতে প্রবেশ করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তার ছোট মেয়ে সিপা আক্তার (১০)। হামলার সময় ঘরে থাকা অন্য দুই কন্যা ছায়মা আক্তার (২১) ও ইকরা বেগম (১৭) গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ছায়মা আক্তারকে লক্ষ্মীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইকরা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়। ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় মা ও চার কন্যা মিলিয়ে পাঁচজন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতদের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আগেই মারা যান। এরপর শাহিনুর বেগম বিভিন্ন কাজ করে চার মেয়েকে বড় করে তুলছিলেন। তাদের মধ্যে একজন কলেজে পড়াশোনা করতেন এবং অন্যরা স্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রায়পুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে পরিবারের কোনো পূর্ব পরিচয় বা বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মানসিকভাবে অস্থির থাকতে পারেন বা মাদকাসক্ত ছিলেন, তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা এমন নৃশংস ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানা যাবে।
মন্তব্য